দিনলিপির খুচরো অনুলিখন | ওয়ালি মাহমুদ

 

কি হল দুলা মিয়া? রাত তো অনেক হল। ঘুমুতে যাবেনা? .. কালই ফ্লাইট…লম্বা জার্নি… দু’তলার লফটের পাশে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ভাবী জাহানারা আরজু। রায়বার তমছিন উদ্দিনের বর্ণনানুযায়ী উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি, মাঝারী গড়ন, উজ্জ্বল-শ্যামলা  রং। গায়ের রং বিশেষণটি আমার মনোপূত হয়নি আজো। বিয়ের পর হতেই ভাবী আমাকে দুলা মিয়া বলেই ডাকে। অথচ ডাক নাম শাইখ। কেন ডাকে বললে শুধু হাসে, কিছু বলেনা। লবির স্বল্প আলোয় মুখটি অস্পস্ট লাগছিল। বিয়ের ছ’সাপ্তাহ সময় দিয়ে প্রবাসী বড়ভাই ফেরেনি দীর্ঘ পাঁচ বছর। টুকটুকে ছোট্ট একটা মেয়ে জবা-কে নিয়ে কি এক অজানা মায়ায় সবাইকে আগলে রেখে পড়ে আছে এখানে। দুপুরেই লিষ্ট দেখে ব্যাগগুলো গুছিয়ে রেখেছে। বাইরে রয়ে গেছে শুধু ডায়েরীটি। নাড়াচাড়া করছিলাম কষ্ট-সুখের দিনলিপি। ঘুম আসছিলনা। নেব কিনা স্থির করতে পারছিলামনা। উঠে এসে মলাটবদ্ধ ডায়েরীকে সঙ্গে করে নির্মোহ অবসাদে শরীরটাকে বিছানায় এলিয়ে দিই।

এলার্মের শব্দ ক্রমেই বাড়ছিল। কাঁটা তখন সাতটার ঘরে। প্রাক্ প্রস্তুতি সম্পন্ন করে গাড়িতে উঠার সময় ভাবী ডায়েরীটি হাতে দিয়ে বলল, যত্নে রেখো। অথচ ভূলেই গিয়েছিলাম ডায়েরীটির কথা। ফ্লাইট ০০৩ ঢাকা-দুবাই-হিথরো। ইমিগ্রেশন শেষ করে ইমিরাটস্-এ বসি। বুকটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল। এর আগেও সার্কভূক্ত দেশগুলোতে যাওয়া হয়েছে কিন্তু এরকম হয়নি। বিদায়বেলা দেশ মাতৃকার দৃশ্য আমাকে আপ্লুত করে ফেলে। মা-কে আগেই বলেছিলাম, দেখো মা যাবার বেলায় কাঁদবেনা। আমি কষ্ট পাব। অথচ মায়ের সজল স্নেহভরা দৃষ্টি আমার চোখ তার জল আটকাতে পারেনি। জড়িয়ে ধরে বলেছিলাম, ভাল থেকো মা, দোয়া কর। বিমানের গন্থব্য ও সীটবেল্ট বাঁধার ঘোষনাটি অবস্থানকে স্মরন করিয়ে দিল। আনমনে ডায়েরির পাতা দেখছিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আল্পনার  প্রহর গুনতে গুনতে ডায়েরীটির এ অংশে আটকে গেলাম। তখন ইমিরাটস্ বম্বে অতিক্রম করছে।

 

২৬ শে ফেব্রুয়ারি ১৯৯২

নুশরাত’র সঙ্গে ভালবাসা-বাসির আজ এক বছর পূর্ণ হল। মানে বছর পূর্তির দিন। স্কলারশীপ-এর সংবাদ শুনে যেদিন অভিনন্দন জানাতে গিয়েছিলাম, সেদিন তার স্বাগত আচরন আমাকে মোহিত করে। যখন ফিরে আসব তখন বলেছিল, যারাই স্কলারশীপ পাবে তাদেরকে যদি আপনি অন্তত একটি ফুল দেন আমি খুশী হব।

 

২৭ শে ফেব্রুয়ারি

পুষ্প’দি এক টুকরো কাগজ হাতে গুজে দেয়। ভাঁজ খোলে দেখি পোক্ত হাতে লেখা- আর্টস্ ফ্যাকাল্টি চত্বর, বিকেল চারটা। সে যথারীতি আকাশী রংগের শাড়ি পরে হাজির।

কেমন আছো?

হুম।

এমন করে কি দেখছ?

মানিয়েছে বেশ।

মনে হচ্ছে নতুন কিছু?

হ্যাঁ, ভাল আছি এবং নতুন।

আমি টেগোরের কৃষ্ণকলির সঙ্গে আকাশীর যোগসূত্রটি খুঁজছিলাম।

যেমন…

গাঢ় নীলের সঙ্গে এ রংটির সখ্য বড় বেশী।

আমাদের থেকেও?

হতে পারে।

আমার আবেগপ্রবণ গোত্রীয়ভূক্ত নুশরাত অনেকক্ষণ কোন কথা বলেনি। হঠাৎ নীরবতার হাত ধরে দিগন্তের দিকে তাকিয়ে বলল- একটা সত্য কথা বলি, আসলে কি, মাঝে মাঝে তোমাকে বড় অচেনা মনে হয়।

কেন বলতো?

চেনার মাঝেই তো অচেনার বসবাস, সেজন্যই হয়তোবা। তারপর কোন কথা না বলেই চলে গেল।

 

২৮শে ফেব্রুয়ারি

আজ প্রিয়তমাবলে ডাকি, ঠিক আছে? আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। চোখ নীরবে নামিয়ে নিল। প্রথম বিশেষণে, প্রথম- যা কিছু জীবনে, বড় ভালো লাগে। ভালো আছো?

হ্যাঁ গো ভাল আছি।

স্পষ্টত: তার অধর রক্তিম হয়ে যাচ্ছে। আমি বুঝিনা এতে লজ্জার কি আছে। এসব তো ন্যাচারেল। এসো আমার চোখে চোখ রাখ তো। দেখো, এখানে আর কেউ আছে কিনা?

চোখ দেখে বলল, কর্ণিয়ার মধ্যে এ মূহুর্তে প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি।

তাহলে লজ্জা পাচ্ছ কেন? ভাললাগা থেকেই তো ভালবাসা হয়। ভাললাগা নগদ, ভালবাসা বাকী হলেই কেবল আঁধারে জোৎস্না বয়।

আমি এ রকম করে বলতে পারিনা। শুধু বুঝি তুমি আমার ভালবাসার একক পুরুষ।

একি আমাদের মধ্যে আবার ব্যয়াকরণ টেনে আনা হচ্ছে কেন?

আমি বিভক্তি সহ্য করবনা। শুনো, সামনের দিন দেখা হবেনা। টিউটোরিয়াল শীট রেডী করব। পরশু।

 

১লা মার্চ

কাল রাতে কেন জানি ঘুম হয়নি। জানালা দিয়ে হুহু করে বাতাস ঢুকছিল। পর্দা মনে হচ্ছে যেন তরঙ্গের মতো স্পন্দিত হচ্ছে। চাঁদের দিকে তাকিয়ে অনেক কথা বললাম। তবুও মনে হল কিছুই বলা হয়নি। আমার নুশরাতকে না বলা সুখের ব্যথা। নিজের মধ্যে একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করছিলাম। বয়সের বয়সী জালে আত্মহারা হবার বর্ণনসকল বাসা বাঁধে দেহে, নির্জনে। ক্রমাগত অবারিত চিন্তন আমাকে তাড়িত করছে। অত:পর আনন্দ প্রণয়ে ঢেকে রাখছে ভোরের শিশির।

 

২রা মার্চ

মধুর ক্যান্টিন থেকে নির্ধারিত সবুজ চত্বরের অংশ দেখা যায়। না, মান্নান স্যারের পরে আর কারো ক্লাশ নেই। এখনো একঘন্টা পঁচিশ মিনিট আমাকে গুনতে হবে বসে বসে। গিলতে হবে আরো সিদ্ধ সমোচা এবং কড়া চা। সমোচা এই একটা আছে স্যার, আপনের চা। মধুদ’ার ছোট ছেলেটির নাম আকাশ। বন্ধুরা অনেকেই পিচ্চি কয়। আমি তারে আকাশই বলি। খাতির যত্ন মনে হয় একটু বেশীই করে।

আর কিছু লাগব স্যার?

এক গ্লাস পানি দিস্।

আশেপাশের সকল কোলাহল থেমে যাচ্ছে। সবাই ফিরে যাচ্ছে গন্থব্যের দিকে। ডানপাশে বিরাট কৃষ্ণচূড়ার ডালে কতগুলো পাখি বসেছে স্থির হয়ে আছে। কারো জন্য অপেক্ষা করছেনাতো। প্রাণের সঙ্গে প্রকৃতির পরিশুদ্ধ অনবতরঙ্গতা ভাবিয়ে তুলছে আমাকে। আসমান তার নীল বসন্তের দরজা খোলে দেয়। ততক্ষণে সন্ধিক্ষণের প্রহর গুনতে গুনতে পাঁচটার কাঁটা পেরিয়ে গেছে। অতএব প্রস্থান।

 

এক্সকিউজ মি স্যার ’ড য়্যূ লাইক ড্রিংকস্ অর কফি?

হোয়াইট কফি প্লিজ।

থ্যাংকস্।

ইমিরাটস্ এর দীর্ঘাঙ্গী ওয়েট্রেস কফির অর্ডার নিয়ে গেল। ডায়েরীটা বন্ধ করে বাইরে তাকালাম। মেঘের আনাগোনা উপরদি চলছে প্লেন। মেঘের ধরন পৃথিবীর সবখানেই একরকম। দেখলে মনে হয় উপকরনগুলো যেন নিয়মিত ঢেলে সাজানো হচ্ছে। কফির ফ্লেভার আর ধূয়োয় মিশে যায় স্মৃতির সোপান। মাঝে মাঝে ডায়েরীর অক্ষরগুলোও ঝাপসা হয়ে উঠে। দিনলিপির খুচরো লাইনগুলো এতো বার পড়ছিলাম যে, মনে হয় কোন বৃত্তি পরিক্ষার নির্বাচিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর মুখস্ত করছি। আড়মোড়া ভেঙ্গে আবহাওহায়ার ক্রিয়াকলাপ দেখতে দেখতে অনেকক্ষণ কেটে গেল।

 

৩রা মার্চ

কোকিল ডাকছে। তাও একাকী। নিশ্চয়ই বিরহ আছে। শব্দের ব্যাকূলতা আছড়ে পড়ছে দিগি¦দিক। মগ্নতার পিছন ফিরে জরুরী তলব হয়েছে আজ।

কি হে কাল আসনি যে?

ক্ষমা চাই সখা।

জানো, কতক্ষণ ছিলাম?

এক যুগ হবে।

তা বলেছ বৈকি।

এই প্রাঙ্গণে ভালবাসার অন্তরমানু নামে শুধু একজন মানুষ ছিল তোমার প্রতীক্ষায়।

এমন রয়েসয়ে তুমি হৃদয়ের কথাটি বলতে পার, অথচ আমি পারিনা।

নুশরাত তখন পৃথিবীর সীমানার দিকে তাকিয়ে হেসেছিল শুধু।

 

ইমিরাটস্ দু’ঘন্টার জন্য দুবাই এয়ারপোর্টে ল্যান্ডিং করবে। ডায়েরীটি হ্যান্ড ব্যাগে রাখলাম। মরুভূমির দেশ দুবাই। তপ্ত বালু মাঝে খা খা রোদ্দুরের ছড়াছড়ি।

 

৪ঠা মার্চ

এ্যই শুনছো বাগানে হাস্নাহেনা ফুটেছে। দেখবে?

না।

কেন?

ছিঁড়ে খোপায় গুজতে ইচ্ছে করবে।

কেন, আমি আছিনা, এই নাও। প্রিয়জনের জন্য প্রিয় ফুল- আমি তোমায় দিলাম।

তুমি না একটা…

কি?

থাক্… বলবনা।

একটা অনুরোধ রাখবো?

হ্যাঁ।

হাতটি রাখবে?

কোথায়?

কোথায় আবার… হাতে।

তুমি নিয়ে রাখ, আমি পারবনা। কেমন যেন লাগছে।

আমি আলতো করে কোল থেকে হাতটি নিয়ে হাতে হাত মিলিয়ে দিলাম। তার দিকে চেয়ে বললাম, নুশরাত… স্পর্শনের এ অনুভূতি আমাকে জাগিয়ে রাখবে গভীর অবধি। তোমাকেও?

সে মাথা নাড়লো।

ডান হাতে আদর দিয়ে বাম হাত ধরে বললাম- বেঁচে থাক আমার জন্যে। এ মুহুর্তে কামিংস্’র একটি কবিতা মনে পড়ছে

May I feel said he.

বলব?

বল।

may i feel said he

(I’ll squeal said she

just once said he)

it’s fun said she

(may i touch said he

how much said she

a lot said he)

why not said she

 

থাক্, আর শুনতে হবেনা। হাতটি ছাড়।

কেন?

জোর করে ছাড়িয়ে নিল।

আরে অন্তত শেষের চারটি লাইন শুনে যাও। কাজে লাগবে।

না, ওসবে আমার কাজ নেই।

উঠে দাঁড়াল।

তুমি না শুনতে চাইলে আমি জোরে জোরে বলব। যে শুনবে তার কাজে লাগবে।

পাগলামী কর নাতো।

আমি চোখ বন্ধ করে আবারো আবৃতি করতে লাগলাম

(ccome? said he

ummm said she)

you’re divine! said he

(you are mine said she)

 

ততক্ষণে সে হাঁটতে লাগলো।

 

৫ই মার্চ

আগামী সাপ্তাহে দুই মাসের জন্য কলকাতা যেতে হচ্ছে।

কেন?

এনজিও প্রজেক্টের কাজ।

এতদিন আমি একা থাকবো? কষ্ট হবেনা?

আমার অনুভব তোমাকে স্পর্শ করবে প্রতিনিয়ত এবং অনুপস্থিতি জানান দেবে ক্যালেন্ডারের পাতায় পাতায়।

ভাল কথা আমার কলকাতার এড্রেসটি লিখে রাখ। কাল সকালেই বিয়ানীবাজার চলে যাব। কলকাতা যাবার আগ পর্যন্ত দেশের বাড়ীতেই থাকব।

ঢাকা হয়ে কলকাতা যাবে?

হ্যাঁ, তবে সিলেট থেকে ফ্লাই করবো।

আমার ভালবাসার অর্ধেক তোমার ভল্টে রেখে গেলাম। পলকহীন দৃষ্টি মিলে বাক্যহীন কেটেছিল দীর্ঘসময়। হাতধরাধরি করে গেট পর্যন্ত এসেছিল।

ভাল থেকো।

তুমিও।

একটি তপ্ত নিশ্বাস বুকে ছায়া ফেলেছিল তখন।

 

কলকাতা এসে কাজের ভীড়ে হারিয়ে গেলাম। সদর ষ্ট্রীট হতে নৈহাটি-মুর্শিদাবাদ আবার কলকাতা। পৌঁছে এক সোমবারে পোষ্টকার্ড পোষ্ট করেছিলাম। জানিনা পেল কিনা। দেখতে দেখতে যাবার সময় ঘরিয়ে আসছে। এইতো পরশু। রিপোর্টগুলো রেডী করতে করতে সময় পেরিয়ে গেল। আগেরদিন বিকেলে লিও শপিং মল থেকে তার জন্য আকাশীর আঁচলে কাজ করা নীল শাড়ি কিনেছিলাম।

 

১৬ই মে

দমদম হতে ঢাকা। ট্রাফিক জ্যাম পেরিয়ে সোজা কাকরাইলের ব্যাচেলর ফ্লাটে চলে আসি। কোন মতে কাপড় চেঞ্জ করে গিফট প্যাকটি নিয়ে রোকেয়া হলের দিকে চলমান হই। নুশরাত-১১৮। স্লিপ দিলাম গেটে। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর রুমমেট রওশন বেরিয়ে এল।

কি ব্যাপার? নুশরাত কোথায়?

উত্তর না দিয়েই বলল,আপনি কখন ফিরলেন?

এই তো ঘন্টা খানেক হবে।

আপনার সঙ্গে কথা আছে, আসুন আমরা কোথাও বসি।

তাকে অনুসরন করে টিএসসি-র এক কোনায় বসলাম। আমার মনে হল আমার চেতনাগুলো যেন ফ্রিজ হয়ে যাচ্ছে।

এটা আপনার চিঠি।

 

খামের উপর লেখা

প্রতি

মি. শাইখ সলোমন

১৫ সদর ষ্ট্রীট

কলকাতার ঠিকানা লেখা। আস্তে আস্তে খাম থেকে চিঠিটি আলাদা করে পড়তে শুরু করি।

 

প্রিয়

তোমায় মিস করছি। তাই পত্র লেখা। জানো, আজ তোমার প্রিয় নীল শাড়ি আর হাস্নাহেনা খোঁপায় দিয়ে আমরা যেখানটায় বসতাম; সেখানে বসেছিলাম সারাটা বিকেল পর্যন্ত। পোষ্টকার্ডের পর কেমন আছ জানিনা। শুধু জানি বিরহের কষ্টটুকুন এতোই লম্বা যে, সুনাই নদীকেও হার মানায়।

 

আমি ভাল আছি, তোমার পথ চেয়ে…

 

ইতি

নুশরাত

আর্টস ফ্যাকাল্টি চত্বর

ঢাকা।

৮ই এপ্রিল ১৯৯২

 

রওশনের দিকে তাকালাম। উদ্ভিগ্ন চোখের দৃস্টিতে সে যেন কি বলতে চায়।

একটি দু:সংবাদ আছে।

দু:সংবাদ, কি?

আপনি ঠিক আছেন তো?

হ্যাঁ, ঠিক আছি বলেন।

এপ্রিলের নয় তারিখ রোড এক্সিডেন্টে নুশরাত চলে গেছে।

চলে গেছে মানে?

সকালে ও আমাকে বলে গিয়েছিল যে, ওর ফুফুর বাসা খিলগাঁও যাচ্ছে। আসতে বিকেল হবে।

তারপর?

আসার সময় বাংলা একাডেমীর সামনে যাত্রীবাহী বাস তার রিক্সা-কে ধাক্কা দেয়। হাসপাতালে নেবার পর সে মারা যায়।

 

আমার মাথা ঝিমঝিম করছে। কি করবো কিংবা কি করা উচিত ভেবে পাচ্ছিলাম না। অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে সে বলে যাচ্ছে, নুশরাতের হ্যান্ড ব্যাগে এ চিঠিটি ছিল। প্রক্টর স্যার আমাকে দিয়ে বললেন, চেষ্টা করে যেন পৌঁছে দিই।

এ রকম কোন খবরের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। ¯পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আমার পরিপার্শিক মানুষ-যানবাহন-কোলাহল সবকিছুই কেমন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কোন কিছু বলতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। উঠে এসে ফুটপাত বরাবর পা ফেলে ফেলে সংবাদ সমাধির কিনার অতিক্রম করতে থাকি।

 

কি রকম ঘুমঘুম করছিল। ডায়েরীটি ভাঁজ করে সঙ্গে চোখের পাতাগুলিকেও বন্ধ করে ফেলি। একসময় ঘুমের ঘোরে হারিয়ে যাই।

 

এক্সকিউজ মি.. উড য়্যূ মাইন্ড.. স্যার, প্লিজ ওয়্যের ইয়োর সীট বেল্ট.. এয়ার হোস্টেজের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেল। লেডিস এ্যন্ড জেন্টলম্যান উই আর …

হিথ্রো এয়ারপোর্টে ল্যন্ডিং ঘোষনায় অলস হাতে বেল্ট বাঁধি। ইমিগ্রেশন শেষ করে এক্সিট ধরে টুয়েনটি ফাইব গেইট’র জন্য ক্রমান্বয়ে হাঁটতে থাকি…

 

জীবন বইয়ের পাতায় পাতায়

পড়ে থাকে অনুভূতির অধ্যায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Share Now

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *