
নির্বাসনে নির্বাচিত দ্রোহ: ওয়ালি মাহমুদ
প্রকাশকাল: ফাল্গুন ১৪১০: ফেব্রুয়ারি ২০০৪
প্রকাশক: ম্যাগনাম ওপাস
আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০
প্রচ্ছদ-চিত্রণ: আনওয়ার ফারুক
পরিবেশক
সঙ্গীতা লিমিটেড, ব্রিকলেন, লন্ডন ; মীরা বুকস এন্ড মিউজিক, ফ্যাশন স্ট্রিট, অফ ব্রিকলেন, লন্ডন
ISBN-984-739-062-2
১০০ টাকা
$5
প্রিয় বাবা-মা—
মতিউর রহমান মাহমুদ
মিসেস সুফিয়া রহমান
পিতৃপুরুষ ও তাঁর পরিক্রমণ সংক্রান্ত
একটি কাহিনী বুকের পাঁজরে পুটলি বেঁধে কোলাহল পূর্ণ নাগরিক জীবনের পাশে’দি হেঁটে যান পিতৃপুরুষ। পলেস্তরা খসা স্থাপত্যের কিছু দূরে পাঁচিল ভাঙ্গায় ব্যাপৃত সন্তানের পরিবার। নোনতা ঘামে ভিজে যাচ্ছে রূপান্তরিত মাটি হতে পাথর পর্যন্ত। সর্বনামের মাইজলা অবস্থান-কে আড়াল করে সামনের তিমুখীতে মিশে যান, দিব্যি। অপরিণত ধর্মজ’রা পাশেই পাথরে পাথর ছুঁড়ছিলো। খেলাচ্ছলে না অভিমানের অসময়ে?
দৃষ্টি পঠিত দৃশ্যের আতঙ্কিত অভ্যর্থনাটি রক্তের টানে বুকের লুকানো দুর্বল অস্থিতে গেঁথে যায়। তিনি দগ্ধ হন। অকৃতকার্য অভিধাগুলো নির্ধারণ করেন, সাতত্য। স্মৃতির পাতা হাতড়ে এবং নিড়ানী চালিয়ে ফলবন্ত কোনো ভিয়ান স্পর্শের চেষ্টা চালিয়ে যান। নিঃসীমের অন্ধকারে আলোর হাতছানিতে যেভাবে বন্দে যায় ভোরের কৃষাণ। তিন পুরুষের চৌমুনায় এসে বিরতি দেবার কথা ভাবেন। কিন্তু কোনদিকে যাবেন? দ্বন্দ্বের বিভক্তি নির্ণীত হলো না।
সংস্কারের প্রাচীর ভেঙ্গে উঠে আসা দূরের তারুণ্যকে দেখে বেঁধে নেয়া বস্তুর অস্তিত্বটি পরখ করে, তিনি গহীনের দিকে অন্তঃস্থ হন।
মনো’জ দর্শন এবং কবি
অনুসন্ধান সূত্রের নিয়ত সংশয়ে অবনমিত হয়। সম্মোহিত হয়। প্রকৃতির প্রজনন যন্ত্রের প্রাচুর্যে। মনের অবহেলায়, রাত্রিবেলায় শতপত্র’র জন্য। স্বনির্বাচিত মনাগুণের জীর্ণতায় দু’চোখ কখন নিথর হয়ে গেলো। কেমন নেশা ধরা বাতাসের ঝাপটা লাগে। যেসব হয়, আকাশের সঙ্গে ঘর সংসারে। মনো’জ দর্শনের নগ্নতায় গর্বিত জন্ম, যা সমাজ সংস্কার ও সংক্রাম- এক। খেটে খাওয়া শ্রমিকের মিছিলে হারানো যুবা। ত্রিশোর্ধ্ব। কবে বন্ধ হবে মৌলিক অধিকার না পাওয়া মানুষের দাবীর শ্লোগান? রক্তের মানচিত্র হবে না রাজপথ। রচিবেনা কেউ মার্সিয়া। যুগপৎ প্রতীক্ষার ভীড়ে ভাবছে বসি, কোন সে দরদিয়া।
প্রত্যক্ষ বেদনের বিভাব সঞ্চারী ঘনভবের অনবদ্য স্মারক, অতি নির্দিষ্ট। শব্দের চতুঃসীমায় যেতে যেতে, এক নিরন্জন হেয়ালির সম্পাতে কেঁপে উঠে কবিতার স্বর।
পুরাঘটিত অতীত এবং এক সকাল
মনের মধ্যে যদিও স্থিত হয়নি চয়নশৈলীর পুনরুত্থান। সমাজের নৈতিকতা দোষে বেহাত হয় সুশীলভুক্তরা। বড় হওয়ার ঘটনাকে সাঁকো করে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়েও শেষ স্বপ্নে আশ্রয় হলো না। আত্মজৈবনিক পরার্থবাদের দিকে এগুতে লাগলো। হয়ে উঠলো লভ্য কথকতা। বাসনা হতে অপরাপর স্বভাবচণ্ডীতে উত্তরণে পুরো জীবনটাই যেন হৃদয়ক্ষরা কাহানী। প্রিয়জন-কে হারাতে হলো চূড়ান্তভাবে। শূন্যতা পূরণের দায় নিয়ে গিয়েছিলাম দেশিকের কাছে। রুদ্ধ হয়ে যাওয়া অবৈতনিক পদ্ধতিতে কাছে টানে আমায়।
সম্মিলিত বাংলার মিথ-এর নিজস্ব আচরণ এবং মরমী বিশ্বাসের জগতে অচ্ছেদ্য শরীক হয়ে, এক নীরব সুন্দর সকাল খুলে দেখেছিলাম, নাতির বিয়ের জন্য বিলেত থেকে কেনা দাদুর কাশ্মিরী শাল।
মোহনার খোঁজে
এই আমিও হাঁটি পুলাছড়ার পানি ভেঙ্গে তালে তালে, মোহনার খোঁজে। টিলাগুলোকে নাইয়ে যে স্রোত অন্ধ, নদীর জন্য। সেই দাদাবদিখা’র আমল হতে কিংবা আরও…। ক্রমবর্ধমান ইচ্ছা এখন হাঁটু হতে পায়া’র দিকে নামে। একপাশে পুননির্মাণে ব্যস্ত শতাব্দী প্রাচীন বাঘমারা জামে মসজিদ। অন্যপার্শ্বে মৃত্যু হচ্ছে ফলিত শষ্যের। পৌষমাইয়া কামলার ঘামে দলিত হয় সদ্য প্রয়াত আমনের বুক।
ছড়াহাঁটা মানুষটি তবুও থেমে নেই। অনুভূতির নিকট সমতলের গভীরতা ধীরে ধীরে বাড়ন্ত মনে হচ্ছে। ভাইছাব, মোহনা আর কত দুরই? থামলেন। থেমে এমনতরো দৃষ্টিতে দেখলেন, যেন জনমের প্রশ্নের সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে আসছেন তিনি। আরেকটু সামনে এক দঙ্গল ছেলেমেয়ে জলকেলি খেলছে। তারা কি পেয়েছে খোঁজ?
স্রোত চিন্তনের কমর ছুঁয়েছে সদ্য। ওখানে যেতে যেতে কত দ্রাবিড় ক্রীত হবে আর। নিতান্ত বশংবদ হয়ে গৃহীত হয়নি এখনো। জলপ্রবাহ তললৈ হতে উপরলৈ ক্রম হচ্ছে। ইন্দ্রিয় বলছে, মোহনায় যেতে হলে ডুবুরী হতে হয় আগে। নয়তো নাস্তি।
নির্জন প্রহরের সঙ্গে অমানিশি সারাৎসার করে, এই আমিও হাঁটি পুলাছড়ার পানি ভেঙ্গে তালে তালে, মোহনার খোঁজে।
ভায়া হোকনিয়া
অধিকারের অনিশ্চয়তায় জমে থাকা বিকেলের হাত ধরে সন্ধ্যার নিকট গিয়েছিলাম। কথিত গহনমূলে সুপ্তবীজ দৃশ্যমান হয়। নিঃসঙ্গ তিস্ত্রী বিলের শাপলাগুলোর এখন ফুলেল বসন্ত। হোকনিয়ার সীমানা ধরে রাতজাগা নিশাচরের আনাগোনা দেখতে দেখতে পর্যটক হয়ে যাই। যেমন হয়েছিল পাওয়া-না পাওয়ার নানা স্তর মাধ্যম উত্তিয়ে অভিন্ন নারীর নিকট। যার হৃদয়ের রসায়নে জারিত হয় মনের স্ফুরণ।
আনন্দের বিভায় মোহগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে বুঝেছিলাম, এ শুধু জাগতিক মোহ।
নিশি কাব্যের একাংশ
শিল্পের সঙ্গে হৃদয়সত্তা যখন মোহনায় এসে নোঙর করে, তখন মনোনৌকা পাল তুলে দেয়। এবং সেই একই সময় কবিতা তার আলোকিত রশ্মি সকাশে একবিংশ-তে পা রাখে।
আর আমি, এখনো আঁধারের নিশি কাব্যে ডুব দিই। স্থলজ-জলজ’র বিবর্তন কে আঁকড়ে ধরি। য-ফলা-কে পেলে, ব-ফলা সরে যায়। এ এক অদ্ভুত খেলা। দেহের ভেতরে রঙের ধূয়া, রূপক প্রবোধে মাতিয়ে রাখে। দীর্ঘশ্বাস শেষ হবার আগেই মরতে-মরতে সাত্রে উঠি।
একি! কোন ঘাটে উঠলাম? না পদ্যের, না গদ্যের। অপরিচিতি সিঁড়ি বেয়ে কবিতা-কে পাঁজাকোলা করে বয়ে নিয়ে চলি ডাঙার দিকে, নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে…
অপ্রসঙ্গের স্মরণ চরিত
প্রণয়গাঁথা শতকের উপর দাঁড়িয়ে ছায়াচিত্রের মুখোশে ঢেকে যায়, বিরহী প্রাণের পরিভাষা। আলোকিত প্রজ্ঞার সৃষ্টির জন্য সময় এবং সমাজের বিরোধাভাস সংক্রান্ত সংকটের খড়কুটো জ্বালিয়ে দিয়ে যখন নিঃশেষের সমাপ্তির নিকট গেলাম, তখন কষ্টগুলো সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অণু হয়ে রয় জমাটবাঁধা অন্ধকারের এক মিশেল পাথরে।
যতদূরে যাই সরে, সরাতে পারিনা তারে। ক্ষণিকের মাঝে এতটুকু পাওয়া, বেশী-তে হারানোর ভয়। আর তার-ই মাঝে সে যে ভালবাসার অন্তর্বাস পরে, রাতের তন্ময়তাকে ভারি করে তন্দ্রার চাদরে আল্পনা এঁকে দেয়।
নব্বই দশকের প্রয়াণ
আত্মানুকৃতির স্ব-কাল মিলে নবতি হতে শতাব্দী। পদ্যের তথ্য, দৈর্ঘ্য মিলে যেন পাতন স্নাত কুশিয়ারার শাখা নদী লুলা। দশ বসন্তের সমাপ্তি শীর্ষক নির্মিতিটি আমার যৈবন খোলা খেরো খাতার সন্দর্ভ, তা যে প্রভেদেই হোক। পুরো দশকের অন্তরে অনুস্যূত হয়ে আছে সুখের পঙ্ক্তি। ক্ষণ, দিন রাত যোগে টেনে দিল ভেদ রেখা।
তারপরও ওসব আমার নিকট এক একটি ‘সংগ্রহ’। যার স্বায়ত্তশাসন মনাধিকারের বাইরে। যে বদ্ধ নয়, সে কি করে আবদ্ধ হয়? মন থেকে মনান্তরে বিরচিত আরাধ্য হয়ে বেঁচে রয়।
কখনও অধ্বগ হলনা, উপহারের উপমা হল। এযাবত যা প্রাপ্তব্য ছিল, তা কোন কবির কাব্য সমগ্র প্রথম খণ্ডের শেষ পৃষ্ঠা।
স্থিরচিত্র এবং গয়রহ
প্রকৃতির শরীরে ভাস্বর সংহারে মুখরিত দেশ। মানুষ জানেনা ঠাঁই পাবে কোথা। তবুও এক অংশ সুখ খোঁজে, শিল্পীর বেড়া ভেঙ্গে শিল্পের দোরে। ধরার মহাজনী, ছ’ঋতুর বাহুডোরে। কাব্য খেলাপী কবি, কবিতা মিথুনে ব্যস্ত। প্রচলিত অজুহাত এবং অলিখিত শর্তে দায়গ্রস্ত। সূচীবদ্ধ প্রকাশিত বক্তব্যগুলো নিষিদ্ধ করে সেন্সরবোর্ড।
মধ্যাহ্ন পেরিয়ে এসে, এক বয়সী সময়ে সামগ্রিক সমষ্টিতে দেখেন শুধু প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
সহযাত্রী এবং আমি
প্রিয়তা, শুভেচ্ছার সংসারে মঙ্গলের দাগে বসতি ঠিকানায় আঠাশে মার্চের পাশাপাশি ‘স্নিগ্ধায়’। রূপালি ক্ষেতের পৌষী দোলায় আন্দোলিত আটঘণ্টার ভরা মাঠে, আমরা ছিলাম। বাইশের মিলে যাওয়া জন্মদিন এক-প্রহর সিতানে রাখার শর্তে অগ্রিম দেয়া তিনটি লাল গোলাপ ইত্যাদি অনেক।… অপলক হারানো বাঁক। অতঃপর আমি পাকা ধানের ঝিলিক দেয়া কণায় সংখ্যা খুঁজি। বাইনারী পদ্ধতিতে। কখনো অমিল, কখনো সমিল। গুণে নেয়া কৃষাণের কাঁচির ফলা, মুইটভরা গুছি নিয়ে সুখ বাঁধি, কলি সাজাই।
ওগো কৃষাণী মোর, দু’ফসলা জমির ফলন হও। যুগল দেহ’জ ঘাম হও। মুছে দেবো আপন হাতে। দূর্বাঘাসের বিছানায় তৃণলতা মিলে, ছত্রিশ বাঁধন দেখবো খোলে অদেখা প্রভাতে।
অভিনয় ও বসতি
অবিচ্ছেদ্য অনুষদ। কাব্যের প্রেক্ষিত নির্মিতিতে স্বকীয় বিবর্তন শীর্ষক নাগরিকায়নের সভ্য পরিচয়ে বর্ণিত হয়, আমার উক্তিসমূহ সর্বৈব সত্য। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সত্যের আদলে কতটুকু সত্য বলি আমি অথবা আমরা। রোমন্থন করি বাস্তবতাকে আলগ রেখে, স্বভাবের অবাস্তব সুখের রাতে। সে কোন সভ্যতা!
নিদ্রালোকে অদৃশ্য পাঠকের ধারাভাষ্যে শুনি, জীবনের সঙ্গে অভিনয়ের মিত্রতা। ঘুমের পতন, সূচনার স্বচ্ছতা ঢেলে দেয়।
মুক্তির আখ্যান
বাংলার পাতা হতে জাগ্রত কৃষ্টি। আমরা সেই সনাতন অনন্ত প্রণালী। কাব্যিক স্বরূপতার স্ববশ সঞ্চারণ। সেদিন স্পন্দিত অন্তরে শুনেছিলাম সংগ্রামের ডাক। আগমনী বার্তার বাহক ছিল মুক্তি সেনা। মাঝে লাল-সবুজ কাপড়ে যুগান্তর পরিণীতা হয়ে ছিল, প্রিয়তমা বাংলাদেশ। ন’মাস যুদ্ধাবশেষে প্রদর্শনমত্ত রক্তিম কাব্যমালায় নির্মিত স্বাধীন- সার্বভৌম।
বাঙালির মনের অলিন্দে রক্তঝরা এক সমাপিত আখ্যানমালা।
এক বীরাঙ্গনার অটোবায়োগ্রাফির অংশবিশেষ
‘স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখবো’ দলবদ্ধ শ্লোগান শুনি। আমি জিগাই, স্বাধীনতা, তুমি কেমন আছ? আর আমি? এক ধ্বংসের মাঝে বেঁচে আছি। সমাজ আমারে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়ে দ্যায়, সে তো বীরাঙ্গনা। আমার অপরাধ, আমার স্বামী যুদ্ধে গেছে। কিন্তু কই? তাদের তো দেখায় না, যাদের জন্য আমার পবিত্র শরীরের বসন টেনে-ছিঁড়ে কলংকের বসন পরায়ে দিল। আমার জীবনের সেই অভিশপ্ত কাহিনীর স্বীকৃতি দেয়া হল।
আমিও তো মানুষ। আমারও একটা মন ছিল, ঘর ছিল। জীবন-কে সাজাবার সাধও ছিল। স-ব কিছু নষ্ট হল। স্বপ্নগুলো পুড়ায়ে দিল। স্বাধীনতা দিবস আসে, স্বাধীনতা দিবস যায়। বিজয় দিবস আসে, বিজয় দিবস যায়। যখন দেখি, স্বাধীনতা কালে যারা মানুষ নামক বন্য শুকর ছিল; তারা এখন বক্তৃতা-বিবৃতি দেয়, মুক্তিযুদ্ধ তথা স্বাধীনতা-কে সমুন্নত রাখবে বলে। ইচ্ছে করে, জন্মদিনের পোশাক পরে প্রজন্ম-কে জানায়ে দিই তাদের ঘৃণ্য অপকর্মের কথা।
ধিক্ রাজাকার, ধিক্ স্বাধীনতা বিরোধী পশুদের। আমার বাসর হতে টেনে নিলি মোর স্বপ্ন পুরুষ, যে আমারে দেখতে চায়নি। দেখতে চেয়েছিল স্বাধীনতাকে। সে দেখেনি। যুদ্ধ থেকে ফেরেনি। আমার আত্মার আকুতি, বিচার হোক তাদের, বিচার হোক। এখনো নিস্তব্ধ রাতের কোন জেগে থাকা দ্বি-প্রহরে চাঁদের নিচে বসে জ্যোৎস্নার আলোয় স্বদেশ-কে জানান দিই, স্বাধীনতা হে স্বাধীনতা, তুমিই আমার স্বপ্নপুরুষ।
জীবন: নেহার প্রসঙ্গ
জীবনের গদ্য স্রোতে ভেসে থাকা মানুষগুলো দশক কিংবা শতকে এসে হারিয়ে যায়। তারা কি জানে, অস্তিত্বের বসতকোঠা কোথায়? ত্রি-স্তর অন্তে ‘একদা’ শব্দের স্থায়ী আবাসনের সদর্প ঘোষণা গন্তব্য-কে অনুগামী করে দেয়। আমিও কি তার বাইরে? যাপিত ধারায় মাত্রার ব্যবহার করেছি যত্রতত্র। অর্জনের বিপরীতে আটপৌরে সম্পর্কের গ্রহণ- সেটুকুন পর্যন্ত। জন্ম মৃত্যুর মলাটবন্দী বছরপাতায় লিপিবদ্ধ পঙ্ক্তিমালার বহুবিধ উৎসবে নিঃসর্গের সামগ্রিক স্পন্দন, যা প্রতিকৃতিমূলে প্রকাশিতব্য।
তবুও স্বপ্ন দেখে মানুষ। সমাজের ধরন পাল্টাবার। অর্জিত সকল তুলে দেয় হাত হতে হাতে।
লনসডাল হতে বাকিংহাম
এস্তপদে কুয়াশা ভেঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে আমি লনড্রাল এভিন্যু হতে বুর্জোয়া বাকিংহাম গিয়েছিলাম। অপরাগ ছিল মন। তবুও। শোষিতের দু’শ বছরের অভিশাপ সায়বালা ছিল। সাবেকী শ্রমিকের রক্তে গাঁথা ইটের স্থাপত্য সেখানে। রাজপ্রাসাদের জৌলুষে মুছে গেছে লুটে আনা কোহিনূর সহ তাজমহলের হীরে-জহরতের ইতিহাস। এখানে বদলে যাওয়া ইংরেজ’র অগ্রন্থিত ব্যাখ্যাগুলো অপাংক্তেয় হয়ে রয়।
প্রতিবাদী তিতুমীর, শরিয়তউল্লা, শওকত আলী, মোহাম্মদ আলী, সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম’রা জেনেছিল অবধারণ করে রূপায়ন করার আত্মসংজ্ঞা। তাঁদের উত্তরাধিকারের গর্বিত বাঙালি এক। বুকে জমানো কষ্ট কি মীরজাফর, জগত শেঠের আত্মা দেখতে পাচ্ছে? এখানেও তাদের প্রচ্ছায়া বিরাজ করে। বিনীতের উপসংহার টানতে তারা ঝালাই করে নিচ্ছে উত্তরসম্পর্ক।
তবুও প্রপঞ্চময় বাস্তবতার সপ্রতিভ ভাষা, যার উদান-মাদান নেই। ঘৃণার অভিধান জমা দিয়ে ফিরছিলাম আর ভাবছিলাম, ‘মন দরে কিনে নিয়ে রত্তি দরে বিক্রি করা ১৭৫৭ হতে ১৯৪৭ সাল।’
আগ্রাসনের আবর্তন
যদি বলি, চাঁদ-কে ঢেকে দিই? তুমি দেখবেনা চাঁদের আলো। দেহের পশ্চাতে ঢাকনিকে দেখবে পুরোপুরি। যদি অন্ধকার-কে আড়াল করে দিই, দিনের আড়ালে?
সে তখন হৃদ যমুনা সাঁতরে দ্রোহীর মতো টানটান করে আগ্রাসী হয়।
ছায়ার অধিবাস
আমার মানসপটে কার আবছায়া? কে অধিবাস করেছে সেখানে?
অবয়বটির প্রতিচ্ছবি অস্পষ্ট। ব্যাখ্যাটি এরকম হতে পারে যেমন, সুখের পাল ছিড়ে দুখের বন্দরে জরুরী নোঙর করে আহ্লাদগুলো এবং শাতন বৌ’ অবগাহন অনুরণিত করছে আমাকে। এসবেই আমি আর আমিত্বের ফারাকের মাঝে লুকিয়ে থাকে, সৃষ্টিকর্তার বাগদত্তা দেহ-মন-সত্তা।
কিতা অইছে তোমার?
কিছু না।
সঙ্গিনীর ব্যাকুল হাত ঠেলে উঠে আসি অটবি’র নীড়ে। গাছগুলো শব্দের প্রতিধ্বনি করে নড়ছে। অতীন্দ্রিয়ের উপস্থিতি রিপু’র আঙিনা কাঁপিয়ে দিয়ে যায়। যে জন শীত দুপুরে একফালি রোদপড়া চিবুকের তৃতীয়াংশে আদর দেয়ার একান্ত গোপনীয় আব্দার রাখতো। যার প্রিয়াঙ্গনের কনিষ্ঠাতে ছিল মোর ভালোবাসার অষ্টধাতু। তার ওসবে হারিয়ে গিয়েও প্রশ্নের সুরাহা হয় না।
ভাবের খতিয়ান খোলে গৃহবাসী হয়ে, শেষ রাতের শেষ তারাটির প্রতীক্ষায় জেগে আছি।
দেরি
আর কত দেরি?
একজন প্রিয়জনের হৃদয়মথিত কান্না। সাবলীল নীলাম্বরী অনন্বিত কদর্য মনীষিতা পরিত্যাগ করে আদি প্রেষণ হয়েছিল। সুনীল অতীতে এবং স্নায়ু প্রবাহে বিজিত হয়েছো। অন্তরের প্রাত্যহিক কার্যসমূহ বিবর্ণ করে দেয় আমাকে। এরকম তো চাইনি। তারপরও সেথায় তোমার আরোহন অবরোহন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
আর ঠিক তার মাঝে হঠাৎ দীর্ঘাঙ্গী, অজস্র মায়ায় আলোছায়ায় মিলে মিশে শিয়রের পাশে দাঁড়ায়, প্রতিমাবিদেহী অনুপ্রাসগতভাবে।
আমার অবর্তমান
জীবনের বাস্তবতায় হারিয়ে যাওয়া ছবিগুলো আর ভাসবেনা। স্মৃতির পটে জেগে উঠবেনা আনন্দঘন আবেশমাখা দিনগুলি। জীবন-কে সাজাতে পুষ্পশয্যার বাসর হয়তো সাজাবে। রাত্রির নিঃসীম অন্ধকার নয়তো চাঁদের আলোয় ভরে উঠবে। মনু’জ সকল।
জানি, বাকী সময়টুকুর পূর্ণতায় আমি থাকবনা। আমার স্মরণগুলো বহন করো মনোমাঝে।
দু’অধ্যায়
প্রথম
ভাঙ্গার অন্তরালে একটি ছোট গল্প। অনেক সাধনা ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কষ্ট থেকে উঠে আসা একগুচ্ছ করবী ধরালাম হাতে। আমাকে অবাক করে ফুলটি ছিড়ে দিয়ে বলল, ভাগ করে নাও। সে হতে ভাগ করা ফুলটি মোর একটি সংগ্রাহক পাঁজর। তখন থেকেই ভোক্তা হিসেবে জাহির করি নিজেকে, অংশীদারীত্বের দাবিতে।
দ্বিতীয়
তিলেতিলে গড়ে ওঠা একজন শ্রেষ্ঠা। অনেক স্পর্শকাতর সন্ধি বিদ্যমান সত্ত্বেও দুস্তর পথ বেয়ে উঁচু-তে অবতরণ করে। অন্যেরা যেখানে ব্যর্থ। পশ্চাৎপদ।
পছন্দ-অপছন্দের ধার না করেই এক লহমায় থেমে যাও, মনির পতনে।
উৎসর্গের পূর্বাশা
প্রেমের মতো তীব্রতরো পরনের কাপড় সারা গায়ে লেপ্টে ধীরে ধীরে আবার ফিরে যাই মনফলা বাগানের নীচে। রসকূয়োর কাছে। হাত-পা রাখি কুয়োর দেয়ালে, তাক এবং খাঁজে। পায়ের তলার নীচে অনুভব করি পাতলা ঘামের ধারা, যা এক মন্তর চির নিরব ছিন্ন।
চোখের উপর তুলে ধরলাম কুয়োটি। নড়াচড়ায় মনে হল ভেতরে বন্দি, অব্যবহৃত বাতাস- ক্ষীণ প্রতিধ্বনি রূপ; যেন চেপে ধরা সামুদ্রিক শঙ্খের আওয়াজ। একটি বৃহৎ শন শন করা শব্দের আহত কান্না। পাহাড়ের চূড়োয় বসি মাথা তুলে কাঁধির উর্ধ্বদেশে দেখতে পাই, বৃত্তাকার খণ্ড। বৃত্তের এক পাশে হাত রেখেই বলেছিলাম, ওসব অন্যের জন্য রেখে দাও, আজ রাতে উৎসর্গ করে গেলাম।
যে সুখে বিরহ ছিল
তীব্র ব্যথা আর অব্যক্ত কথাগুলো কল্পনার সাত রঙে সাজিয়ে বেদনা ও সুখের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মনোপন্যাসে আগুন জ্বেলে সকল প্রতিকূলতার নাগপাশ ছিন্ন করে যেদিন আকাশের তারা হয়ে জ্বলবে সে দিন কি অনেক দূরে?
সাগরের সীমাহীনতায় কিংবা মননের স্বপ্নীল আখি’র মাঝে আমায় খুঁজবেনা; অন্তরের অন্তঃস্থল হতে উৎসারিত না হলে ভুলে যেও নিরবধি।
যারে হারায়ে খুঁজি
প্রত্যাশিত চাহিদা শুধু সাবলীল চাওয়া-পাওয়ার মেরুকরণ হয়েছিল, কল্পনায়। মধ্যাহ্নের দৃষ্টি বৈচিত্র্যে ভাবলাম, আগের মতোই খুঁজে পাওয়া বিরল কিছু। সুখ স্বপ্নের সহযাত্রী অথবা দ্বৈত সহগামী। নির্মল যোগাসনে সমাসীন মানব-মানবী। যারে বান্ধি একতারে। এক পাক্ষিক সুরে।
বিকল্প সত্যটিকে না দেখে হারালাম। নিকষ কালো অন্ধকারে।
দুখের বিপরীতে সুখের রকমফের
অসত্য নয় প্রায়শঃই। যখনই হচ্ছে হয় তখনই নয়। আমরা দু’জন একক হই, রমনীয় ভোগচর্চা করে। অবিরাম শ্রমক্লান্তি সুখময় ভোগের স্বপ্নময়তায় অগণন প্রকারে মৃয়মাণ সুখ। এভাবে বন্টন করি উষ্ণতা (তার)। স্পর্শ বিনিময়ের ফাঁকে ফাঁকে বিশ্লেষণ সুখ। পুলক ঢেউয়ের উন্মাতাল ছুটোছুটি তুমুল রমণ অতঃপর ভারমুক্তি সুখ। চমৎকার মুহূর্তের সুখ। সুন্দরম দৃশ্যের প্রতি দৃষ্টিসুখ। কল্পনার ইচ্ছেমত আঁকা অংকন সুখ। মনের অজস্র চাওয়া-পাওয়ার কাঙ্ক্ষিত প্রান্তিক সুখ।
বি.দ্র. ভালবাসার নিকুঞ্জে বাস করেও যদি একজন সুখী মানুষ ভাবতে না পার, দুখের কষ্টিপাথরে উত্তর খোঁজ।
অনাদি গন্তব্যের প্রতীক্ষায়
সনাক্তকরণ চিহ্ন বহনকারী আজন্ম সতীর্থ। দ্বিতীয় সত্তার নাতিদীর্ঘ কবিতা, আমার আটকে থাকা প্রহরের ক্ষণিক ব্যত্যয় ঘটায়। যে অদম্য জীবন যাপনে অভ্যস্ত, তার এক স্মারকলিপিকায় উৎসর্গীকৃত বক্তব্যের কথ্যরূপ; সুপ্ত যেন উচ্চারণে উন্মোচিত অলংকার।
এক সময় আত্মসঙ্গী হয় কাব্যের পরিণত পর্বে। নিমগ্ন আভিজাত্যের কৌমার্যে প্রচলিত নীতি আঁচড় কেটে দেয়, সর্বব্যাপী জীবনায়নে। কতটুকু যোগ্যতা সংরক্ষিত সাধারণ মানুষের? আমার নৈর্ব্যক্তিক জীবপ্রেম উন্মুক্ত করে মননশীল রচনার ধ্রুপদী- বলয়ে। জ্ঞাতব্যঃ অনাদি গন্তব্যের প্রতীক্ষায় আরেক স্ব-সত্তা।
স্মরণ চরিত-দুই
গত দশক ধরে শুধু একজন-কে ভালোবেসে তুমি মনীষাগতভাবে বিপর্যস্ত হয়েছো। এমনও সময় ছিল যখন লিখেছিলে, তোমাকে দেখলে আকাশ নীল হয়, আঁধারে চন্দ্রিমা বয়। আবেগে আপ্লুত হয়ে রঙ রাঙানো মন। সে অনাদ্যত কালের জীবদেহে জুড়ে থাকা আত্মাদর সর্বস্বতা। সেদিন আসনি বলে চন্দ্রতারা যায় যায়। গানের পাখি আজ পরবাসী। নদী তার যৌবন মাতঙ্গে উচ্ছ্বাসহারা। জল তরঙ্গ নেই সাগরের। নেই তার উল্লাস। বৈরাগী সাজ ঋতুচক্রের বনে। এ স্বার্থ অজুহাত বিরহিত হলেও প্ররোচনা ছিল হৃদয় স্পন্দনের।
অনাত্মীয়তার শুভ হাল খাতার জের টেনে নীরব সাক্ষী হয়ে বলেছিলে, বড় নির্দয় বড় কষ্টের। তীর খাওয়া যোদ্ধার মতো। হারানো যন্ত্রণা নিয়ে ঘুরি, সর্বত্র। এবং মোদের একাকীত্বে রক্ষিত সেই বীজাণু যা থেকে সৃষ্টি হয় প্রজন্ম। আত্মপক্ষের সে ক্ষত, শুধবে কত কাল।
সারাংশের একাংশ
শতাব্দীর হাত ধরে অতীন্দ্রিয় লালিত প্রফুল্ল সন্তোষ। বাসা-বাসির সঞ্চয় কর্তৃক নির্মিতব্য তিলোত্তমা। বিষণ্ণতার প্রবেশ পথে পিঠ দিয়ে সর্বনাশা লু। অক্ষয়ক্লীষ্ট মনের অন্তপ্রাণ সেধে যামিনীর প্রতীক্ষা করেছিলাম। শ্রাবণের আঁচল খুলে বড় দেরী করে এসেছিল সোনাই নদীর স্রোত। ধাবমান স্বপ্নগুলোর বর্ণালি আবহের রূপালি ঝিলিক, পিলে চমকে দেয়। আর তখনই, শরচ্চন্দ্র মনের গগনে পোষে আশা, নিরূপিত ভাষা। মন যে মানেনা। প্রবাহ সম বাঁধা, জগতে আছে সাধা।
হৃদয় ছাড়বেনা যে। হতে পারে আপত্তিকর সাফল্য গাঁথা। আর প্রিয়-জনের আনন, যার নিজস্ব আনুগত্যের আনস্থ্য নেই।
স্মরণ চরিত-দুই
গত দশক ধরে শুধু একজন-কে ভালোবেসে তুমি মনীষাগতভাবে বিপর্যস্ত হয়েছো। এমনও সময় ছিল যখন লিখেছিলে, তোমাকে দেখলে আকাশ নীল হয়, আঁধারে চন্দ্রিমা বয়। আবেগে আপ্লুত হয়ে রঙ রাঙানো মন। সে অনাদ্যত কালের জীবদেহে জুড়ে থাকা আত্মাদর সর্বস্বতা। সেদিন আসনি বলে চন্দ্রতারা যায় যায়। গানের পাখি আজ পরবাসী। নদী তার যৌবন মাতঙ্গে উচ্ছ্বাসহারা। জল তরঙ্গ নেই সাগরের। নেই তার উল্লাস। বৈরাগী সাজ ঋতুচক্রের বনে। এ স্বার্থ অজুহাত বিরহিত হলেও প্ররোচনা ছিল হৃদয় স্পন্দনের।
অনাত্মীয়তার শুভ হাল খাতার জের টেনে নীরব সাক্ষী হয়ে বলেছিলে, বড় নির্দয় বড় কষ্টের। তীর খাওয়া যোদ্ধার মতো। হারানো যন্ত্রণা নিয়ে ঘুরি, সর্বত্র। এবং মোদের একাকীত্বে রক্ষিত সেই বীজাণু যা থেকে সৃষ্টি হয় প্রজন্ম। আত্মপক্ষের সে ক্ষত, শুধবে কত কাল।
সারাংশের একাংশ
শতাব্দীর হাত ধরে অতীন্দ্রিয় লালিত প্রফুল্ল সন্তোষ। বাসা-বাসির সঞ্চয় কর্তৃক নির্মিতব্য তিলোত্তমা। বিষণ্ণতার প্রবেশ পথে পিঠ দিয়ে সর্বনাশা লু। অক্ষয়ক্লীষ্ট মনের অন্তপ্রাণ সেধে যামিনীর প্রতীক্ষা করেছিলাম। শ্রাবণের আঁচল খুলে বড় দেরী করে এসেছিল সোনাই নদীর স্রোত। ধাবমান স্বপ্নগুলোর বর্ণালি আবহের রূপালি ঝিলিক, পিলে চমকে দেয়। আর তখনই, শরচ্চন্দ্র মনের গগনে পোষে আশা, নিরূপিত ভাষা। মন যে মানেনা। প্রবাহ সম বাঁধা, জগতে আছে সাধা। হৃদয় ছাড়বেনা যে। হতে পারে আপত্তিকর সাফল্য গাঁথা। আর প্রিয়-জনের আনন, যার নিজস্ব আনুগত্যের আনস্থ্য নেই।
রেখাপাতন চিত্র
যে অশ্রু ফেলিছো বসি, সে তো স্বচ্ছ নহে। অক্ষরের অনিমা প্রয়োগে রেখেছো অজিত করে, তর না সহে।
অস্বচ্ছ-সলিল যাহা উত্তরের অনুদ্দেশ, অনুদিন ভাবনাতেই রহে। কবে সে কখন করেছে বসত, হৃদয় স্খলনের যৌথ বিরহে।
যে অশ্রু ফেলিছো বসি হে, সে তো স্বচ্ছ নহে।
সৃজনের গন্তব্য
স্বচ্ছ সুন্দর পৃথিবীর মাঝে হারাতে হয়, হারিয়ে যায় ব্যতিব্যস্ত কাজে। অতিক্রান্ত সময় জীবন-যুদ্ধে বরাদ্দ করে সৃষ্টিশীল কিছু কাজ, কিছু স্ব-প্রভা।
সায়র এর প্লাটফরমে দাঁড়ানো যে লোকগুলো পরাজয়ের পিঠে বিজয় বুনে। তাদেরই আগামী বাতাবরণের চৌহদ্দি পেরিয়ে গন্তব্য হবে অন্য আনন্দলোনে।
তবুও যদি
মনদোকানের বউনি দেব দখল নেব হৃদয় টুমার।
দখিন দুয়ার খুলে দেব বরণ করে ঘরে নেবার।
চন্নী রাইত গীত শোনাব শিউলিমালা পরায়ে দেবার।
যতন করে তুলে নেব মনের উপর মন বিছাবার।
বায়নামা যে জমা রাখবো ন্যায্য দাবি বুঝে নেবার।
প্রত্যহলিপি
অক্ষরের খরচাপতি নিয়ে কাব্যপাতি দৃশতঃ অস্পৃহ ‘হ’। সরলীকরণ ছন্দবিধির যোজনা, এ কেমন দহন প্রতীক্ষা সহেনা।
কোন
বিরহীর
জন্য
এসব
বিরহ?
জমা রাখি প্রকৃতির নিকট। তবুও পথ চলি নিরন্তর অভিমানে।
নেপথ্য প্রেরণার করটে দীর্ঘকাল ধরে সয়ে যাওয়া প্রত্যহ।
খেয়াল
সুরি’র অতলস্পর্শে ভালোবাসার
বর্ণমালা সাজিয়ে রেখো।
আমি যে অগ্রণী অঙ্গনা,
অঙ্গন তোমার আগলে রেখো।