
যৈবতী শোন
ওয়ালি মাহমুদ
প্রকাশ কাল: একুশে বই মেলা, ১৯৯৯
গ্রন্থসত্ব: লেখক
অলংকরণ: উত্তম সেন
প্রকাশক: কোলাজ প্রকাশনী
আলোকচিত্র: মাজহারুল হক পিন্টু
মূল্য: পঁয়ত্রিশ টাকা।
উৎসর্গ: আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম।
যৈবতী শোন—১
নীল আকাশ
বুকে লোমশ তারা।
অনুভূতি দেখবে, চল
প্রকৃতির বিছানায় যাবে।
আঁকাবাঁকা খাইবার গিরি
দু’পাশে যুগ্ম হিমালয়,
নিছক কল্পনা। না, তিন সত্যি।
চল প্রকৃতির বিছানায় যাবে।
অভিজ্ঞতা ভিন্ন খোঁজা নিরর্থক
উত্তেজিত মুহুর্তের বলি,
কেশরের থালায় তা দেবে, চল
প্রকৃতির বিছানায় যাবে।
খাটে— প্রতীক্ষায়
ত্রিভূজ ভূমি সদৃশ পাবে
চল প্রকৃতির বিছানায় যাবে।
যৈবতী শোন—২
তুমি কি তুমি নয়?
যেখানে নিরবধি কথামালা
সুরের ঝংকার তোলে
উরু সমষ্টি দোলা
সে সব উপাত্ত্বের সমন¦য়।
অপরূপা।
আমার বাহুলগ্না সঙ্গীনি
বরাবর আমার
তুমি কি তুমি নয়?
যৈবতী শোন—৩
ভালবাসা আসলে কি ভাল
সর্বনাশা খেলা খেলে
আগুন যে তার আলো।
যৈবতী শোন—৪
কবিতার প্রাণকেন্দ্রে
লুক্কায়িত কবি।
সে এক ভয়ানক আকাঙ্খার
আগুনে পোড়ে, ছাই হয়।
‘তার’ রূপে ঝলসে যাওয়া
এক মন—ধাওয়া করে
সারা রাতভর ভরা জোৎস্নায়।
যৈবতী শোন—৫
তোমার ভাবনায় নষ্ট করে মন।
নস্যাৎ করে প্রেরনা।
প্রেম ও প্রণয়ের অক্লান্ত উৎসবের বর্ষপূর্তিতে
এ এপিসোড ভিন্নমাত্রায় রাঙাবো;
অসমাপ্ত ব্যাপ্তির সীমারেখা টানবো
জীবনের পটভূমিতে
খুঁজে পাব খুব দামী ভালবাসা।
যৈবতী শোন—৬
এইখানে হাত দাও
স্পন্দনের কাছে,
হৃৎপিন্ডের তন্ত্রীতে
বুকের গহীনে, যেখানে
তুমি ছাড়া কেউ নেই।
যৈবতী শোন—৭
আমার সুখ আছে, দু:খ নেই।
এখন তুমি নেই তাই
সুখ নেই। দু:খ আছে
কষ্ট আছে;
সুখ ছাড়া সব আছে।
যৈবতী শোন—৮
শোন পিচাসী—সব নিলি চুষে।
মংস টুকরো কষ্টহীন করে
জোয়াল ছাড়াও দিলি চষে।
অবিন্যস্ত শরীর জমি
বাকী ছিল মই মাড়ানী তাও দিলি
শোন পিচাসী—সব নিলি চুষে।
যৈবতী শোন—৯
ক্ষতাক্ত হৃদয়
লেলিহান শিখা
অনিরুদ্ধ ফোয়ারা আর
যেখানেই শূন্যতা, রিক্ততা
অনুর্বরতার চিত্র..
সেখানেই প্রদীপ্ত— আমি।
যৈবতী শোন—১০
বুক কাঁপিয়ে— কামনামদির হয়
সংবেদনশীল আদর দেয়।
আদরটি বাহ্যত
পেলব মানসিকতার অনুবর্তি।
মিশে আছে বন্যতা
যা আদিম ও অকৃত্রিম বৈশিষ্ট্যের একটি
সে সম্পর্ক করতে পারে
বাইরের সঙ্গে, অন্ধকারের সঙ্গে..
যে রক্তের ডাক শুনতে পায়—সহজাত ভাবেই।
যৈবতী শোন—১১
ও আসতে চায়, আসতে দাও
ওর নি:শ্বাসের ভাষা
ভাল লাগে—বিশ্বাসের মতোন।
ও আসতে চায়, আসতে দাও
বয়সের বাড়ন্তি টেরপাই, জানি
ও কাঙালিনী, মায়ার, ভালবাসার।
ও আসতে চায় আসতে দাও।
যৈবতী শোন—১২
যে মুখটির চেনা ঘ্রান
তাকে বিমুখ করনি
অন্ধকারে হাত ধরে
বাঁধ তাঁরে।
বৈধ আসনে শয্যা পেতে
পিয়াস মেটাও তারই সাথে
অমূল্য ধন বুকে চেপে
গভীর রাতে।
যৈবতী শোন—১৩
ভীষন ইচ্ছে করে—
প্রচণ্ড শীতের এই রাতে
তোমার বুকে
মাথা রেখে
উষ্ণতা নেই ভালবাসার।
যৈবতী শোন—১৪
রংধনুর সকল রঙ
অন্তরে মিশাও
চুমিয়া চুমিয়া।
যৈবতী শোন—১৫
তুমি আর তোমার পরিচয়
আমার জীবন তুলিতে আঁকা।
তোমার মরমিয়া’র জন্যি
সফেদ কাপড়ে যা কিছু— তোমার
নিখুঁত কারুকার্যতে শিল্প বানাও।
যৈবতী শোন—১৬
বিচঞ্চল সুশান্তা
বেচইন হয়ে
শরীরের ছায়াতলে
নির্বলভাবে পড়ে রয়।