উৎসর্গ: মাকমদ এ. মাহমুদ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যিনি জেল খেটেছেন ও কাজ করেছেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ফরোয়ার্ড ব্লক ইংল্যাণ্ড শাখায় এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সংগঠক।
পৃথিবীর নামযুক্ত মানুষের ভিড়ে, আমি না হয় নামহীন মানুষ হই-দিনমান। জঠর নাভিমূলে জন্ম মানবমাতা; প্রিয়তমা যে-ই থাকুক না নিখোঁজ সে; হে বিধাতা। সম্পর্ক সফল ধরে নিয়ে ব্যবহার করা বাক্য লিখে থাকে আগ্রহীগণ। শূন্যতায় জরুরি কথার দাগে দাগ ফেলে চলে প্রীতি সমাবেশ। অথচ এইখানে কান পেতে শোন নিরন্তর স্পন্দন। অতঃপর সুখধ্বনি আকাশে উড়িয়ে… স্বপ্নের কাছাকাছি যাবার বেলায়; পাঠ হবে মানপত্র। তখন দু’হাত ভ’রে উড়ায়ে দিও-চাহনিখানি .. পরাণ ভরে।
বড় মায়া লাগে।
কি এমন ভালবাসার মায়ায় বান্ধিয়া রাখো, কও? না বলা গোপন কথাগুলোতে কি আদর মাখো। যে ভাষায় টেক্সট লিখো,‘আপনি আমার কানের দুল, আপনি আমার নাকের ফুল, আপনি আমার চোখের নীল, আপনি আমার ঠোটের তিল।’ জেনে রাখও-ভাল লাগে দুল-ফুল-নীল, আরও লাগে তিল। হৃদয়ের কাছাকাছি থাক বলে-সহসাই খোঁজে পাই মিল।
বড় মায়া লাগে।
যে বন্ধন আপন করে লজ্জাবতীর শব্দপাঠে। হে ললাট-এটা কি আজন্ম উত্তরাধিকার? অর্পণ-ঘাটে! হোকনিয়া মহল্লার পথে ফুটেছে যে উজানি ফুল। দ্যাখোনা-সৌন্দর্য পানে তাকাবার জন্য পুষ্প কেমন ব্যাকুল। একবার-শুধু কও, কোন পাঁজরে তুমি লুকিয়ে থাকো। কতটুকু স্পর্শ-ঘ্রাণ দিলে উষ্ণতা থামবে নাকো। কোন শিওরে গুজে রাখো-আমার জন্য গুচ্ছ ফুল। যত দূরে যাই যতটুকু বাঁধি, জুড়ে থাকে স্মৃতির কূল।
যে বেলায় আকাশ রঙিন হয়, তখনও স্বপ্ন জাগে। যে আশায় পূর্ণিমা অপূর্ণ রয়-তবুও মায়া লাগে।