
ভালবাসার পোয়াতি
ওয়ালি মাহমুদ
প্রকাশ কাল- একুশে বই মেলা, ১৯৯৯
গ্রন্থসত্ব: লেখক
অলংকরণ: উত্তম সেন
প্রকাশক: কোলাজ প্রকাশনী
আলোকচিত্র: মাজহারুল হক পিন্টু
মূল্য: পঁয়ত্রিশ টাকা।
উৎসর্গ: এম. শওকত আলী
ভালবাসার পোয়াতি- ১
কলাবউ, কষ্ট দেবনা
এহেন দুর্বহ সুদিনে।
সকাতর সংগোপনেও না
জীবনের বুক-শেলফে
ধুলো জমে এলোমেলো স্মৃতির সারি।
তোমার শখের শুজনীটা নষ্ট করেছি অনেক
কৃতজ্ঞতার সমাংশে অপূর্ন রাখবনা
আমার সাতত্য সাধনায়।
দূর থেকে দেখব শুধু দেখব একেসর-কে
‘যে আমার ভালবাসার পোয়াতি।’
ভালবাসার পোয়াতি- ২
কোন কোন সময় চিরচেনা মানুষকেও
অচেনা লাগে—সে আমার সে’ই’ মনেই হয়না।
যার জন্যে রাতের পর রাত গত করে পেয়েছিলাম,
শুধু ভোর। জীবনে বিভ্রম খেলে, খেলে যায়।
প্রণয়ের মাঝে খেলে, গোপন রতির মাঝে খেলে।
চোখের পাতা নুয়ে পড়ে, কেঁপে ওঠে
মধ্য শিশির বিন্দু ফোঁটা হয়, গড়ায়, গড়িয়ে পড়ে।
ফোঁটা জখম করে আমাকে পোড়ায়।
‘পোড়া’ শব্দটা শনশন করে বাজে বুকে।
তাকে আশার প্রতিমাতে বিশেষিত করতে
লালস করে মন। কতটুকু মানায়—
বিশ্রামের পাশ ফিরে শোয়া?
বিস্তর অবসরে, বিস্ময়ভরে পান্থনিবাসের তরে
পালাতেও পারেনি, চারুশীলার কারণে হয়তো বা
সেরা সময়ে, স্মৃতি থেকে স্মৃতিতে। আমি দেহের,
মনের পৃষ্ঠা এখন বেশ পড়তে পারি।
প্রহরের চেয়ে সময় আার কাছে দীর্ঘ—দায়বদ্ধ
আত্মার কাছে যেমন অধরার সমর্পন।
ভালবাসার পোয়াতি- ৩
এ সময় নীল আকাশ আশা করিনা,
পরিষ্কার দেখি মেঘলা দিনে
বসন্তের যৌবনে আকাশ-বাতাস অস্থির থাকে।
ভালবাসায় সুদূর অতীত থাকে।
সম্পৃক্ত বর্ষনের সঙ্গে হৃদয় বিদীর্ণ করা বিষয়বস্তু;
ভূমিকা আর সারমর্মের নতুন জাগরণে হাতছাড়া
হ’য়ে যায় প্রণয়ের রত্ন। একটানা তাকিয়ে দেখার
অপর্যাপ্ততা লেপ্টা-লেপ্টির (প্রার্থী-প্রার্থিনীতে)।
আমার কোন অভিযোগ নেই। অনির্বাচনীয় সুখের
একাগ্রতায় নীরব গভীরতা দেয় স্বীকৃতির দর্পন
দুরত্ব প্রায় কাছাকাছি ও স্পষ্ট।
তার মনের মাঝে থাকার আশ্বাসে
সুস্থ্য করে জীর্ণ প্রেমকে।
ভালবাসার পোয়াতি- ৪
যখন আমি থাকব না।
বেদনা ভরা দৃষ্টি নিয়ে
তোমাকে ছেড়ে
চলে যাব দূরে;
অ-নে-ক।
শুধু একা’—থামল সে,
অজান্তে
চোখের কোন ভিজে উঠল।
গভীর আবেগে কাছে টানলো
তার তপ্ত নি:শ্বাস আমার
বুকের হাড়গুলো ভেঙ্গে দিতে চাইল
পরিপূর্ণ এক দীর্ঘশ্বাস।
ভালবাসার পোয়াতি- ৫
তোমার কাছে আসবো বলে
আমি পাহাড়ের চুড়ো ধরে
গিরিপাশ ঘুরে, দিগন্ত আলো
নির্দিষ্ট করে চলি অবিরত।
তোমার কাছে আসবো বলে
নদীর মতো একবুক কষ্ট পলি বিলিয়ে যাই।
শস্যে সূর্যমুখী—তোমাকে দেবো বলে..
তুমি সাগর, কতদূরে
তোমার কাছে আসবো বলে।
ভালবাসার পোয়াতি- ৬
তোমার রাতগুলো কেমন যাচ্ছে, জানিয়ো।
ক্যান্টিনে একরাশ প্রীতির খালা ভরে এগিয়ে দিতে,
উছলে উঠেছিল ভরা কাপ,
এখনো কি উঠে, জানিয়ো।
অনাবশ্যক জেনেও সময় চাইতে
এখনো কি চাও, জানিয়ো।
পছন্দের কিছু বললে খিলখিল করে
হাসির রাজ্যে ট্রানজিট নিতে
এ বেলা কোথায় নাও, জানিয়ো।
প্রেমাঞ্জলির বর্ণনায় দোদুল্যমান মনে
রাজ্য অবাক করা চোখে তাতাতে—আমার দিকে
এখন কার দিকে তাকাও—জানিয়ো।
নিবিড় বসায় হাত ধরতে, বিচেছদের ভারে ছলছল করতে
আবেগের তোড়ে স্পন্দন হারাতে
এখনো তেমনি কি আছো—জানিয়ো।
ভালবাসার পোয়াতি- ৭
ছোপ ছোপ ছোঁয়া
ঝাকুনি দেয়
না—বোধক সম্মতিতেও
অজানা ভাল লাগা, নিরন্ময়।
দেহে দেহে দেয়া, ইতস্তত: পরেও
শেষে দেখি
বিদ্ধস্ত ভগ্নাবশেষ থেকে
উদ্ধার করা একজনা স্থপতি।
ভালবাসার পোয়াতি- ৮
তুমি সব কিছু বোঝ
ছলা কলা বোঝ
শেষ সময়
আনন্দ অশ্রু বিসর্জন দিতে বোঝ
শুধু আমাকে বোঝ না।
ভালবাসার পোয়াতি- ৯
সাধ হলো
চোখ রাখবো, রাখলাম।
সাধ হলো
হাত রাখবো, রাখলাম।
সাধ হলো
ছোঁয়াবো শরীর, ছোঁয়ালাম।
সাধ হলো
বাঁধবো তাতে, বাঁধলাম।
সাধ হলো
জালি ছিড়ঁবো, ছিড়ঁলাম।
সাধ হলো
বাড়াবো আরো, বাড়ালাম।
কোন সাধ নিয়ে বাড়াবাড়ি?
ভালবাসার পোয়াতি-১০
তোমার বাসর
কি দিয়ে সাজিয়ে রাখি
ভালবাসা ছাড়া কি আছে বাকী?
ভালবাসার পোয়াতি- ১১
তুমি নামক
চার ধারে
সুকোমল দিকগুলোর দিকে নজর না দিলে
মায়ার আশ্রয় হয়না।
কারুকার্য, বর্ণ এবং গঠনশৈলী
বড়ই বিচিত্র।
তারই মহান বদৌলতে
শ্যামলী বর্ষায় রূপসী,
সব ভূমিকা তোমার।
তোমার আছে রূপ-রস-গন্ধ
মিলে মাদক নেশা
এক রোমাঞ্চ বাঙালি মন
তোমাকে চায়
ঘনঘোর বর্ষা যেমন বৃষ্টিতে মিলায়।
ভালবাসার পোয়াতি- ১২
রাত পোহালে বলে, ঝিঁ ঝিঁ’র ডাক
শরীরের সঙ্গে শরীরের সাঁটা লেপ
বক্ষ জানালা খুলতেই আচ্ছন্ন করে দেয়
জৈবিক কুয়াশঅ, ঝাপনা আঙিনা
চিবুক থেকে নাভিমুল পর্যন্ত দুরত্বে অবস্থানÑতার।
জলজ নীরবতায় অশ্রুসিক্ত চোখের কোনা
বিরতি, স্বল্প।
আবার আমায় ডাকলো বলে
প্রাত:রাশ, ঝিঁ ঝিঁ’র ডাক
শরীরের সঙ্গে শরীরের সাঁটা লেপ..
ভালবাসার পোয়াতি- ১৩
এক বুক ভাসা-ভাসা ভালবাসা
নিয়ে
বসবাস করি নিদ্রালুর সাথে
আত্মজার সহোদর হয়ে।
ভালবাসার পোয়াতি- ১৪
যদি ভূল করে তুমি কাছে আসো
আমাকে পাবেনা তুমি
দেখো—তোমার মন
সেখানে কি তুমি আর আমি?
ভালবাসার পোয়াতি- ১৫
সত্ত্বার সন্ধানে সাহায্যকারী
বিসর্জন দেয়া এক অবিকল আফলাতুন।
বিনিময় নিতে অভ্যস্থ নয়।
যে ভালবাসা যতটুকু প্রয়োজনীয়—
হৃদয়ে, অস্থি মজ্জায় সমস্ত দিন, সমস্ত রাত
সঙ্গ চায়, মৃত্যু পর্যন্ত। আমার দুর্বলতা
বন্ধুত্বের উষ্ণতার প্রাণবন্ত মানুষের।
কাঁদনি অনেক দিন—আজ কাঁদলে আমার সামনে।
বিশ্বেস করতে চাইলে না
তুমি যাকে ভালবাসতে চাইছো
সেই একজন আমি।
পুরোদস্তুর আন্তরিকভাবেই
বাস্তব সত্যকে মেনে নিই বিচিত্র বাস্তবাতায়
অতীতের গর্ভে অবস্থান নেয় প্রাণময় স্বত্ত্বা।
কোন পরিবর্তন ঘটেনি;
অনমনীয়ভাবে আঁকড়ে থাকা।
ভালবাসার পোয়াতি- ১৬
খামচে ধরি সর্ন্তপনে
ভূতল ফুঁড়ে ওপরে আসতে চায়
বৃত্তের দিকের চন্দ্রবিন্দুটি
স্ফীত হয় প্রগাঢ় অভিমানে
সেখানে শব্দ তৈরী হয় না, অক্ষর ছাড়া।
আঁচলের লেজে চুমু দিই
শীতল হাত, বিপন্নতার দিকে যায় মৃত্যু ছাড়া
প্রিয়জনকে তাড়িয়ে উপভোগ করি।
আলোড়িত হয় মনের দেয়াল
চারদিকের স্তব্দতা ছিড়ে
কাম শব্দে ভেসে উঠে
হিমহিম ছায়া, প্রগাঢ় রাত্রে।